প্রথম অধ্যায়: এমন রাজবংশের সঙ্গে একই দলে থাকলে কীভাবে ভালো খেলা সম্ভব?

LOL: Eu sou uma súcuba na península louco miúdo YuYuYuYu 3948শব্দ 2026-08-04 00:09:06

২০১৯ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর। দক্ষিণ কোরিয়ার অনলাইন গেমিং ফোরামের ‘লিগ অফ লিজেন্ডস’ বিভাগে একগুচ্ছ গরম খবর আলোচনার ঝড় তুলল।

এলসিকে (LCK) এস-নাইন সিজন শেষ হওয়ার ঠিক একদিন পর, যখন ভক্তরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের দলের সম্ভাবনা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এক নম্বর সিড দল এসকেটি টিওয়ান (SKT T1) এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়ে বসল।

দ্বিতীয় সারির দলের জঙ্গল-প্লেয়ারকে মূল দলে উন্নীত করা হয়েছে? ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত? ‘রাজকীয়’ কোনো বড় অশুভ শক্তির প্রবেশ? (এখানে ‘রাজকীয়’ বলতে অত্যন্ত প্রভাবশালী বা শক্তিশালী কোনো পৃষ্ঠপোষক বা প্রভাবশালীর আত্মীয়কে বোঝানো হয়েছে)।

এসব শব্দ যখন একসাথে জুড়ে দেওয়া হলো, তখন পুরো বিষয়টি কেমন যেন কে-পপ জগতের কোনো স্ক্যান্ডালের মতো মনে হতে লাগল। অনেকটা এমন—একটা ব্যান্ড এক বছর ধরে ভালো পারফর্ম করার পর হঠাৎই কোনো অজানা ব্যাকগ্রাউন্ডের নতুন সদস্য এসে যোগ দিল এবং সিনিয়রদের আড়ালে থেকে সব কৃতিত্ব লুফে নিতে শুরু করল।

ঠিক এমনটাই তো ঘটেছিল বিখ্যাত গার্ল গ্রুপ ‘টি-আরা’র (T-ara) ক্ষেত্রে। সেই পরিণতির কথা মনে পড়লে এসকেটি-র ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তারা ভাবল, এখন এসকেটি টিমের ভেতরকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠবে, পারস্পরিক দোষারোপ চলবে এবং মিডিয়া একের পর এক নোংরা খবর ছড়াবে। শেষমেশ, এই ‘রাজকীয়’ ব্যক্তিটি যখন সব তছনছ করে দিয়ে নিজের মতো চলে যাবে, তখন দলটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

না, এটা হতে দেওয়া যায় না!

সোশ্যাল মিডিয়ায় এসকেটি-র ভক্তরা ক্লাব ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তুলল।
“কেন এই মুহূর্তে সেকেন্ডারি দলের জঙ্গল-প্লেয়ারকে ডেকে আনা হলো? আমাদের বর্তমান লাইনআপ তো এক বছর ধরে দারুণ খেলছে!”
“কিম জং-গিউন (কোমা), তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? নতুন কাউকে নিতে হলে সিজন শুরু হওয়ার আগে নিতে পারতে, এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কেন?”
“সবাই শান্ত হোন, শোনা যাচ্ছে লোকটা নাকি খুব প্রভাবশালী কেউ। শুধু আশা করি কোচ তাকে যেন মূল ম্যাচে না নামান!”

দুপুর দুটোর দিকে, সিউলের গ্যাংনাম এলাকায় এসকেটি ক্লাবের সামনে একটি ট্রাক এসে থামল, যার গায়ে লেখা প্রতিবাদী সব বার্তা।

এদিকে, ভক্তরা উঠেপড়ে লাগল নতুন এই জঙ্গল-প্লেয়ার ‘অ্যাডনিস’ (Adonis)-এর পরিচয় বের করতে। তার আসল নাম চোই তায়ে। অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত, জন্ম ১৯৯৭ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর। সিকে (CK) লিগে তার পারফরম্যান্স দুর্দান্ত ছিল, তাকে বলা হতো ‘জঙ্গল কিং’। সে একাই চারজনকে নিয়ে এসকেটি-র দ্বিতীয় দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিল।

তথ্যগুলো দেখে কিছু ভক্তের মনে হলো—হয়তো তারা ভুল ভাবছে। হয়তো তার কোনো প্রভাবশালী ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, বরং সত্যিই সে প্রতিভাবান। আর ঠিক তখনই আরেকটা খবর ভাইরাল হলো—অ্যাডনিস কি আগে ওয়াইজি (YG) এন্টারটেইনমেন্টের ট্রেইনি ছিল?

সবাই যখন তার অতীত নিয়ে তোলপাড় করছে, তখন এসকেটি টি-ওয়ান ক্লাবের সদর দপ্তরে এক দীর্ঘকায়, সুদর্শন যুবক প্রবেশ করল। কোচ কোমা তাকে মূল দলের ট্রেনিং রুমে নিয়ে এলেন।

যুবকের কবজিতে থাকা রিচার্ড মিলের ঘড়িটি ঝকঝক করছিল, যাতে খোদাই করা ছিল ‘চোই তায়ে’। কোমা সবার সামনে ঘোষণা করলেন, “এখন থেকে চোই তায়ে আমাদের সাথে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে।”

চোই তায়ে মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে সবার দিকে তাকাল। তার দৃষ্টি গিয়ে থামল দলের মূল স্তম্ভ, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন মিড-ল্যানার ফ্যাকার (Faker) অর্থাৎ লি সাং-হিউকের ওপর।

সে হালকা চালে বলল, “সবাইকে হ্যালো। যেহেতু আগে দেখা হয়নি, তাই কোনো উপহার আনিনি!” রুমে হাসির রোল পড়ল। কেউ তাকে অসম্মান করার সাহস পেল না, কারণ দলের সবাই জানত এই ছেলেটি সাধারণ কেউ নয়।

সে শুধু একজন দক্ষ খেলোয়াড়ই নয়, বরং গোল-স্টুডিও (GOALSTUDIO) নামক বিখ্যাত স্পোর্টস ফ্যাশন ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা তার মা। এলসিকে-র দশটি দলের জার্সিই তাদের তৈরি। গ্রীষ্মের ছুটিতে সে যখন ক্লাবে এসেছিল, তখন থেকেই সবার সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি ক্লাবের খাবার মেনুও বদলে গিয়েছিল।

এমাত (Mata) মুচকি হেসে বলল, “এসো চোই, আমার পাশেই বসো। আমাদের একসাথে ভালো খেলতে হবে।”

চোই তায়ে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, কিন্তু তার নজর ছিল অন্য কোথাও। সে সোজা ফ্যাকারের দিকে তাকিয়ে বলল, “ধন্যবাদ এমাত, তবে মিড এবং জঙ্গলই হলো আসল জুটি। তাই ফ্যাকার, আপনার সাথে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।”

ফ্যাকারের উত্তর দেওয়ার আগেই ছোট সাপোর্টার এফর্ট (Effort) নিজে থেকেই জায়গা ছেড়ে দিল। সে জানত, দলের আসল ‘গডফাদার’ কে। এখন এই ‘রাজকীয়’ খেলোয়াড়কে নিয়ে কী হবে, তা তো সময় আর কোচই বলে দেবে। আপাতত, সবার কাজ শুধু একে অপরকে সম্মান জানানো।