অষ্টম অধ্যায়: ড্রাগনের সন্ধান (প্রথম ভাগ)

অন্তিম ড্রাগন নিয়ে চৌ 3654শব্দ 2026-03-19 06:11:02

এড সিঙ্গেল সবচেয়ে পছন্দ করত গ্রীষ্মকাল। তখনও যখন সে ভিসা নগরে থাকত, এই ঋতুতে সে মায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যেকোনো উপায়ে বন্ধুদের সঙ্গে ভিয়াঞ্জ নদীতে ঝাঁপ দিত। নদীর যে জল উজানে ছিল প্রখর ও দুরন্ত, সেটি ভিসা নগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাবার সময় প্রশস্ত ও শান্ত হয়ে যেত। এড দুর্দান্ত সাঁতারু ছিল, সে এক নিঃশ্বাসে নদীর ওপারে চলে যেত, যেখানে শোনা যেত, একসময় সেখানে মহাদেশের প্রাচীনতম, মানুষের তৈরি জলদেবতার মন্দির দাঁড়িয়ে ছিল, যদিও এখন তার আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। কালো শিলার বামনেরা সহায়তা করেছিল বলে দুই পাড়ের মাঝে গড়ে উঠেছিল মজবুত পাথরের সেতু, আর ভিসা নগরের ধনীরা নির্জন পূর্বপাড়ে গড়ে তুলেছিল জাঁকজমকপূর্ণ বাড়িঘর, যেখানে গ্রীষ্মে বাগানভরা টকটকে লাল ডালিম ফুলে ছেয়ে যেত।

এড যখন পাঁচ বছরের ছিল, তখনও সে মা–বাবার সঙ্গে পূর্বপাড়ে চলে গিয়েছিল, তবে তার মন পড়ে থাকত পশ্চিমপাড়ের জমজমাট হাট আর কোলাহলপূর্ণ ঘাটে। সে জানালার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত, দেখত ঘাটে ভিড়ছে আর ছেড়ে যাচ্ছে নানা নৌকা, ভাবত, তারা কত অদ্ভুত দেশে, কত রোমাঞ্চকর অভিযানে গিয়েছে।

সে একবার এক পরীর নৌকাও দেখেছিল—সুন্দর, সরু, আর চুপচাপ ঘাটের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক যেমন মা ছোটবেলায় ঘুমাতে যাবার আগে তাকে গল্পে শুনিয়েছিলেন। সে পানিতে ঝাঁপিয়ে যতটা সম্ভব কাছে এগিয়ে গিয়েছিল, বিস্ময়ে দেখেছিল সেই অপূর্ব নকশা আর গড়ন, যদিও স্পর্শ করতে সাহস করেনি। হঠাৎ নৌকা থেকে কেউ মাথা বাড়িয়ে বলেছিল, ‘‘সাবধান, আমরা এখনই ছেড়ে দেব।’’

সে ছিল এক তরুণ এলফ, সুদর্শন, মার্জিত, কাঁধ ছাপানো স্বর্ণাভ চুল, হাসিমুখে তাকিয়েছিল এডের দিকে, কোনোভাবেই সে ছিল না সেই কিংবদন্তীর এলফদের মতো, যারা গম্ভীর, অভিজাত, দুর্লভ। এড মন খারাপ করে সাঁতরে ফিরে এসেছিল, সেতুতে উঠে দাঁড়িয়েছিল, দেখেছিল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেই নৌকা দক্ষিণের দিকে হারিয়ে যাচ্ছে।

সেটি ছিল তার জীবনের প্রথম এবং একমাত্র এলফ–দর্শন। এলফদের রাজ্য অনেক দূরের দক্ষিণের অরণ্যে, তারা খুব কমই উত্তরের নির্জন দেশে আসে।

এড সেই এলফটিকে খুব ভালো লেগেছিল। সে ভেবেছিল, এ কারণেই বোধহয় ইসকে প্রথম দেখার পরই সে ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিল, কারণ ইসেরও স্বর্ণাভ চুল, সূক্ষ্ম মুখাবয়ব। সে একবার নিজেকে সামলাতে না পেরে জিজ্ঞাসা করেছিল, ইসের রক্তে এলফদের কোনো যোগ আছে কি না। ইস মাথা নেড়ে চুল সরিয়ে নিজের কান দেখিয়েছিল।

‘‘অর্ধ–এলফদের কানও তীক্ষ্ণ হয়,’’ ইস বলেছিল, ‘‘আমি এক অর্ধ–এলফকে চিনি...’’ তারপর চুপ করে গিয়েছিল।

‘‘অর্ধ–এলফ!’’ এড উত্তেজিত হয়ে চেঁচিয়ে উঠেছিল, ‘‘সে কোথায়? তার নাম কী? সে কি তোমার বন্ধু? আমি কি তাকে দেখতে পারি?’’

‘‘কাইলেব্রিয়েন,’’ ইস একটু অনিচ্ছায় বলেছিল, ‘‘তবে আমাদের কারো পিছনে তার কথা বলা উচিত নয়। সে ঠিক জানতে পারবে, সে নারিয়ার চেয়েও ভয়ঙ্কর।’’

বিদায়ের সময়ও সে সতর্ক করেছিল, ‘‘কাউকে বলবে না যে আমি তোমাকে অর্ধ–এলফের কথা বলেছি।’’ সত্যি সত্যি সে একটু অস্থির দেখাচ্ছিল।

এড শপথ করেছিল, তারপরই নারিয়াকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল। সে ভাই–বোন দু’জনকে অনেকদিন ধরে চেনে, জোরাজুরি করে তাদের বন্ধুত্ব জয় করেছে—যদিও নারিয়া বলে, সে কেবল নজর রাখে যাতে এড ইসকে ঠকাতে না পারে।

‘‘কয়েকদিনে কাইলেব্রিয়েনকে দেখেছ?’’ সে জিজ্ঞেস করেছিল।

‘‘ওই অর্ধ–এলফ পুরোহিত?’’ নারিয়া সন্দেহভরা চোখে তাকিয়েছিল, ‘‘এলান বলেছিল, সে গেছে...’’ তারপর আমতা আমতা করে থেমে গিয়েছিল, বিরক্তিতে তাকে লাথি মেরেছিল।

‘‘একটা শব্দও বাইরে বলবে না!’’ সে হুমকি দিয়েছিল।

এইভাবে, অন্তত এড জানতে পেরেছিল, কাঠুরে ডেলিয়ানের পরিবার একজন অর্ধ–এলফ পুরোহিতকে চেনে, যা মোটেই সাধারণ ব্যাপার নয়। সে মনে মনে স্থির করল, চুপিচুপি এই রহস্যের পেছনে ছুটবে।

তবে খুব দ্রুতই আরও আকর্ষণীয় কিছুর দিকে মন চলে গেল।

গ্রীষ্মের শেষে। এড ইতিমধ্যে দুর্গের সব গোপন পথ খুঁজে বের করেছে—আসলে, কেবল একটি। ইস যখন প্রথম তাকে সেই গোপন পথে নিয়ে গিয়েছিল, এই পাথরের বাড়িটা, যা তার চোখে ছিল শীতল, নির্জন, বিরক্তিকর, হঠাৎই হয়ে উঠল রহস্যে ও আনন্দে পূর্ণ।

তাতে খুব বেশি কিছু পাওয়া যায়নি।

সে যে আরেক পথ পেয়েছিল, সেটি দ্বিতীয় তলার এক পরিত্যক্ত ঘর থেকে দুর্গের পেছনের খাড়ির দিকে যায়, সম্ভবত পালাবার রাস্তা। কেবল সেই বন্ধ লোহার দরজা তার কল্পনাকে উস্কে দিত, কিন্তু খুলতে সাহস করত না। সে জানত, জাদু কতটা দুর্বোধ্য, শক্তিশালী আর ভয়ানক।

তারপর সে মায়ের চাবি চুরি করেছিল, সুযোগ পেলেই গোপনে বন্ধ ঘরে ঢুকত। যদিও খুব দ্রুত ধরা পড়ে গিয়েছিল এবং প্রচণ্ড বকুনি খেয়েছিল, তিনদিন ঘরে আটকে ছিল, তবু সে আবিষ্কার করেছিল অসাধারণ কিছু।

আধমাস পরে, সে বাবার সঙ্গে দুর্গ ছেড়ে বেরোবার সুযোগ পেয়েছিল, তখন সেই জিনিস নিয়ে ছুটে গিয়েছিল বন্ধুদের কাছে।

সেটি ছিল একখানা মানচিত্র, দেখতে বেশ পুরনো, যত্নে গুটিয়ে রাখা হলেও প্রান্তে ক্ষয় ধরেছিল, খুললেই ভারী সুগন্ধ ছড়াত।

নারিয়া নাক টেনে বলেছিল, ‘‘এই মশলার গন্ধ চিনি না।’’

‘‘হয়তো কারণ এটা খাওয়ার মশলা নয়,’’ এড গম্ভীরভাবে টেবিল ঠুকল, ‘‘শোনো, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ!’’

‘‘তাই?’’ নারিয়া সন্দেহে ভরা গলায় বলল। এডের জোরাজুরিতে তারা ডেলিয়ান বাড়ির ছোট্ট ভেতরের ঘরে গাদাগাদি বসে ছিল, চারপাশে অগুনতি জিনিসপত্র, দেখে মনে হয় না কিছু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে।

‘‘দেখো এই মানচিত্রটা!’’ এড উত্তেজিত হয়ে হাত নাড়ল, প্রায় মোমদানিটা ফেলে দিচ্ছিল, ‘‘দেখো এগুলো!’’

সে আঙুল দিয়ে মানচিত্রের ঝাপসা, অদ্ভুত প্রাণীর মতো চিত্রের দিকে দেখিয়ে বলল, ‘‘তোমরা চিনতে পারছ না? এগুলো ড্রাগন!’’

‘‘ড্রাগন?’’ ইস অবাক হয়ে বলল।

‘‘...অবিশ্বাস্য!’’ এড হতবাক হয়ে叫 উঠল, ‘‘তুমি কখনও ড্রাগনের কথা শোননি? কখনও না?!’’

ইস কৌতূহলে মাথা কাত করল, ‘‘এতে অদ্ভুত কী?’’

স্কটের গল্পে কখনও ড্রাগনের নাম ছিল না, কাভোও কিছু বলেনি, এমনকি ক্রিলিসিসের পাঠাগারে পড়া বইয়েও পায়নি।

‘‘আমি ছোটবেলায় গীতিকারদের গানেই হয়তো শুনেছি,’’ নারিয়া বলল, ‘‘যাই হোক, বড়, খারাপ প্রাণী, মাথায় দুটো শিং, উড়তে পারে, আগুনও ছোঁড়ে, দুষ্প্রাপ্য, রোজ রাস্তায় ড্রাগনের দেখা মেলে না, না জানলেও অস্বাভাবিক নয়।’’

‘‘আগুন ছোঁড়ে কেবল অগ্নি–ড্রাগন! ...এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য!’’ এড দুঃখে বলল, ‘‘ড্রাগন! পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন, ভয়ংকর, শক্তিশালী জাদুময় প্রাণী, কেউ জানে না এদের কথা! তোমরা তাহলে—’’

‘‘আচ্ছা, থামো,’’ নারিয়া বিরক্ত হয়ে বাধা দিল, ‘‘সবাই কি তোমার মতো এসব অদ্ভুত কিছুর প্রতি উৎসাহী নাকি? তুমি আসলে কী দেখাতে চাও?’’

এডের উৎসাহে বড় ধাক্কা লাগল, সে নিতান্ত ক্লান্ত গলায় টেবিলে গড়িয়ে পড়ল, আঙুল দেখিয়ে বলল, ‘‘এই মানচিত্রে মহাদেশের সব ড্রাগনের অবস্থান চিহ্নিত—মোট পাঁচটা... এখানে, এটুকু অন্তত চেনো তো?’’

তার আঙুলের নিচে ছোট একটি দুর্গ আঁকা ছিল। ইস এগিয়ে দেখে বলল,

‘‘ক্রিলিসিস। এখানে ড্রাগন আছে? দুর্গের নিচে লুকিয়ে আছে?’’ তার মনে পড়ল সেই পুরনো লোহার দরজার কথা।

‘‘...বিশ্বাস করো, ওটা ওই দরজায় ঢুকতে পারবে না। বরং বরফ–ড্রাগন মাটির নিচে থাকতে পছন্দ করে না,’’ এড হতাশ গলায় বলল, ‘‘দেখো, এখানে আছে।’’ সে প্রায় মাথা ঠুকে ফেলছিল টেবিলে।

তার আঙুল মানচিত্রে একটু সরিয়ে নিয়ে গেল, এক পাহাড়ের চূড়ায় থামল, সেখানে ডানা মেলা, টিকটিকে–সদৃশ সাদা প্রাণী আঁকা, হাঁ করা মুখে যেন সাদা আগুন ছাড়ছে, কাঁটার ভরা লেজ আশ্চর্য ভঙ্গিতে পাকানো।

‘‘দেখতে খুব ভয়ানক তো মনে হয় না,’’ নারিয়া বলল, ‘‘ওটাও কি আগুন ছোঁড়ে?’’

‘‘ওটা বরফ... বরফ–ড্রাগন প্রাণঘাতী শীতলতা ছুঁড়তে পারে, মুহূর্তে তোমাকে বরফ বানিয়ে ফেলবে, দশ হাজার বছরেও গলবে না,’’ এড হতাশ গলায় বলল।

‘‘ওয়াও!’’ ইস নিস্পৃহভাবে বিস্ময় প্রকাশ করল, যেন এডকে সান্ত্বনা দিতে।

‘‘আমি এই পাহাড়টা চিনি, গ্রাম থেকে দেখা যায় না, ড্রাগনের ডানার পেছনে, আইসট্রো, গ্রামের লোক বলে পাহাড়ে একটা হ্রদ আছে,’’ নারিয়া বলল, ‘‘তোমার বরফ–ড্রাগন হ্রদে থাকে?’’

‘‘ওটা ‘আমার’ বরফ–ড্রাগন না,’’ এড স্পষ্ট করল, সত্যি বলতে সে জানে না, সে আসলেই ড্রাগন চায় কিনা, যদিও ভাবনাটা ভালো, ‘‘এটা হ্রদে থাকে না! ওটা তো মাছ না! ...গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেখানে যদি ড্রাগন থাকে, তো নিশ্চয়ই থাকবেই গুপ্তধন!’’ এডের চোখ চকচক করে উঠল।

‘‘ওহ, এটা আমি শুনেছি, ড্রাগনরা ঝকঝকে জিনিস পছন্দ করে, একেবারে... কাকের মতো,’’ নারিয়া বলল।

‘‘একেবারে না!’’ এড রাগে লাফিয়ে উঠল, নিজেই অপমানিত বোধ করল, ‘‘ড্রাগন সংগ্রহ করে আসল ধন! স্বর্ণমুদ্রা, রত্ন, জাদু সামগ্রী, এমনকি অসীম শক্তির নিদর্শন!’’

‘‘তাহলে, তোমার ইচ্ছা আমরা গুপ্তধন খুঁজতে যাই? কিন্তু সেখানে ড্রাগন আছে, তুমি ভাবো সে আমাদের সহজে তার ধনের কাছে যেতে দেবে? যদি সে সত্যিই এত ভয়ংকর হয়?’’ ইস বলল, ‘‘না হয় আমরা...’’ সে আঙুলে ঘরের মানুষ গুনল, ‘‘একটা ড্রাগন মেরে ফেলব?’’

‘‘কোনো উপায় নেই। কিন্তু দেখো, এই মানচিত্র খুব, খুব পুরনো, যদিও ড্রাগন হাজার বছর বাঁচে, তবু কেউ কি শুনেছে এখানে ড্রাগন আছে?’’

ভাই–বোন দু’জনই মাথা নাড়ল।

‘‘আমিও না। তাই ড্রাগন হয়তো কেউ মেরে ফেলেছে, জানোই তো, সেই মহান অভিযাত্রীরা, নয়ত সে ঘুমাচ্ছে, বরফ–ড্রাগন সাধারণত অনেকদিন ঘুমায়, ইসের থেকেও বেশি। যদি আমরা সেই জায়গা খুঁজে পাই...’’

‘‘তখন দেখা যাবে, গুপ্তধন মহান অভিযাত্রীদেরই দখলে,’’ নারিয়া বলল।

‘‘ওটা ড্রাগনের ধন! কিছু না কিছু রেখেই গেছে!’’ এড দুঃখে প্রতিবাদ করল, ‘‘হয়তো সে তখনও ঘুমাচ্ছে, আমরা লুকিয়ে একটু কিছু নিয়ে আসব! কিছু না পেলেও, জীবন্ত ড্রাগন দেখার সুযোগ... ড্রাগনের কঙ্কাল হলেও চলবে!’’ তার চাওয়া খুব বেশি ছিল না।

‘‘তুমি চাও আমরা সবাই তোমার সঙ্গে যাই?’’ ইস কপালে ভাঁজ ফেলল, ‘‘তাতে কয়েক দিন লাগবে, এলান মানবে না।’’

সে আদৌ কোনো ভয় পায় না, সত্যি বলতে, ভয় কী জিনিস সে কখনও ঠিক বোঝেনি।

‘‘আমার মা–বাবাও না, তাই ঠিক সময় বেছে নিতে হবে,’’ এড আবার সাহস পেল, অন্তত বন্ধুরা তার অভিযানে সায় দিয়েছে। ‘‘নারিয়া, তুমি আসবে তো?’’ সে উচ্ছ্বাসে জিজ্ঞেস করল।

নারিয়া না এলে ইসও যেতে পারবে না, এটা সে জানত।

নারিয়া একটু ভাবল, তারপর কাঁধ ঝাঁকাল, ‘‘আচ্ছা, যাওয়া যাক।’’

এলান মাঝে মাঝে নিজের তরুণ বয়সের নানা অভিযান নিয়ে গল্প করত, কিন্তু কখনও নারিয়া বা ইসকে কোনো বিপজ্জনক কাজে যেতে দিত না, এমনকি একা বনে যাওয়াও মানা, এতে নারিয়া মাঝে মাঝে ক্ষুব্ধ হতো।

হয়তো সময় এসেছে মহাবীর এলান কাভো জানুক, তার মেয়েও নিজেকে—আর ভাইকেও—রক্ষা করতে পারে।