ভবিষ্যতের গ্রহে, সম্পদের অভাব আর জনসংখ্যার বিস্ফোরণ। দুষ্ট ও উন্মাদ ভাইরাস আক্রমণ করেছে মহানগরগুলোকে, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে জোম্বি। দেখুন, এক ক্ষুদে পুলিশ কিভাবে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে!
অত্যন্ত মাথাব্যথা করছিল, গলায় বাঁধা টাইটা জোরে টেনে একটু ঢিলা করলেই যেন দম নিতে পারা যায় এই দূষিত বাতাসে, তবুও গুটিসুটি মেরে বসে থাকা তরুণটি গাড়ির জানালা নামাতে সাহস পেল না, স্থির দৃষ্টিতে সামনে থাকা রুপালি বিলাসবহুল জেটকারের হালকা দুলুনি দেখছিল। এই বহির্বিশ্ব ফেডারেশনের কূটনীতিক কি সদ্য চটুলা নারী তারকাকে তুলে এনে পাহাড়ের চূড়ায় এসে গাড়িতে দোল খাওয়াতে এসেছে?
এই অভিশপ্ত কূটনৈতিক দায়িত্ব!
হঠাৎ হাত বাড়িয়ে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা রেডিওটা ঘুরিয়ে দিল, অনুমান করা যায় সামনের বিলাসগাড়ির হলোগ্রাফিক অডিও-ভিডিও সিস্টেম কতই না মনোরম, অথচ এখানে পুরোনো যুগের জীর্ণ রেডিও, তার তরঙ্গ কণ্ঠস্বর যেন শহরের লাখ লাখ বাতি, নিশ্বাস, হাঁপানির শব্দে কাঁপছে, আর ফ্যাসাদে থাকা উপস্থাপক সেই একটাই প্রসঙ্গ টেনে যাচ্ছেন—গ্রহের জনসংখ্যা শত কোটিতে পৌঁছেছে, বসবাসযোগ্য নতুন গ্রহ নেই, সব রকম সম্পদ নিঃশেষ, এখন কী হবে?
যে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে একসময় তীব্র কটাক্ষ চলত, এখন সেটাই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, অথচ এক-একজন সুশীল বিশেষজ্ঞ বলেন, জনসংখ্যা কমাতে গেলে অন্তত আরও একশো বছর লাগবে—তাহলে এত বছর ধরে এসব বিশেষজ্ঞরা কী করছিলেন?
পাহাড়ের চূড়া থেকে জানালার বাইরে তাকালে যতদূর চোখ যায়, অসংখ্য শহুরে আলোর রেখা—কিন্তু সেগুলোও অল্প আলোয় টিকে থাকা অস্তিত্ব। গত শতক থেকেই রাতের পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে কড়াকড়ি, সম্পদ...
এসব কোনো সাধারণ পুলিশ অফিসারের ভাবনার বিষয় নয়, সে তো কেবল সামনে থাকা সেই বহির্বিশ্বের প্লেবয় কূটনীতিকের গতিবিধি নজরে রেখে রিপোর্ট লিখে কাল সকালে জমা দেবে—তারপর ফিরবে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে, বিছানায় গিয়ে...ঘুমাবে...এতটুকু ভাবলেই তরুণের চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে। সামনের গাড়ির দুলুনি বেড়েই চলেছে, এই ভ্যাকুয়াম সাসপেনশনের বিলাসগাড়ি তো এই যান্ত্রিক সাসপেনশনওয়ালা পুলিশ গাড়ির চেয়ে ঢের ভালো...
কোমরের পাশে