কালো মেঘে আকাশ ঢাকা, ঝড়বৃষ্টি আসন্ন, মানুষের মনে উদ্বেগ আর অস্থিরতা ভর করেছে। আমার কাঁধ ছোট হলেও, আমি এখনো আকাশের অর্ধেকটা বইতে পারি। আমি কখনো নিজেকে সাধু বলে মনে করি না, তবে অধমদের সঙ্গে আমার তুলনা
কি বলা হয় এক শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ যুগকে? উপরের দিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, শাসক ও জনগণের মধ্যে ঐক্য, নিচের দিকে সাধারণ মানুষের নিরাপদে বসবাস, সুখী পরিবার, সকলের পেট ভরা ও গা ঢাকা উষ্ণতায়। পৃথিবীর কোথাও আর নেই যুদ্ধের ধোঁয়ার কুন্ডলি, পাহাড়-জঙ্গলে নেই আর বাধ্য হয়ে ডাকাত হয়ে ওঠা দুর্ধর্ষেরা, শহরের অলিতে-গলিতে নেই চুরি-ছিনতাইয়ে দিন কাটানো হতভাগ্যরা, ঘরে নেই আর সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পিতা-পুত্রের সন্দেহ, ভাই-ভাইয়ের রক্তাক্ত বিবাদের করুণ কাহিনি। উদার আকাশের নীচে, বাতাস ও বৃষ্টির মধুর সমন্বয়ে, মাথার উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ, পায়ের নিচে বসন্তের ছোঁয়ায় জাগ্রত সুন্দর দেশের ছবি—এ যেন এক অনুপম মানবিক চিত্রপট।
এই শান্তিময় পরিবেশে নগরের অলিতে-গলিতে কিশোরদের হাসি-খেলার শব্দ অনায়াসেই ভেসে আসে। নগরের এক শিক্ষালয়ে, দরজার উপরে ঝুলছে ‘গুণীর স্মরণ’-লেখা ফলক। ভেতরে বসে আছেন এক শিক্ষক, চোখ আধা বন্ধ, অথচ তার দৃষ্টি যেন সবাইকেই স্পর্শ করছে। গভীর সেই দৃষ্টিতে রয়েছে এক অভূতপূর্ব দীপ্তি, চুলসজ্জা পরিপাটি। তবে বয়সের ছাপ তাঁর মুখে সুস্পষ্ট, পদ্মাসনে বসা, হাতে ধরে রাখা শাসনের বেতটি তাঁকে যেমন স্নেহপ্রবণ, তেমনই গম্ভীর করে তুলেছে, নিচে বসা কিশোরদের মনে মিশ্রিত ভক্তি ও ভয়ের অনুভূতি জাগায়, মাঝে মাঝে জন্মায় এক অজানা বিশ্বাস।
“শিক্ষক, শিক্ষক, আমাদের কি清平元年-এর আগের কাহিনি শোনাবেন?” কিশোরদের কৌতূহল তো কখনোই দমে না। এই শান্তিপূর্ণ যুগে তাদের কাজ শুধু পড়াশোনা, বড়দের কথা শোনা, বড় হয়ে ব্যবসা, প্রশাসন বা কোনো কারিগরি বিদ্যা শিখে জীবন গড়ার পথ বেছে নেওয়া। তাই অবসরে তারা শুনতে ভালোবাসে বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে সেই অস্থির, রক্তগঙ্গা বয়ে যাওয়া সময়ের বীরপুরুষদের গল্প, নায়কদের কীর্তিগাথা। কখনো কখনো মনে হয়, ইশ! তাঁরাও যদি সেই যুগে জন্মাতেন, হাতে তরবারি তুলে প্রাণপণে স্বজন ও দেশরক্ষায় যুদ্ধ করতেন।
তবে এসব ভাবন