অধ্যায় ১০৩ লিউ জিয়ানজুনের বুকে হঠাৎ ব্যথা ```
হলুদের মা ডাক্তারকে খুব দ্রুতই ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। ডাক্তার সব শুনে বললেন, ‘গর্ভপাতের জন্য বিয়ের সনদ আর প্রমাণপত্র লাগবে, তোমরা সবাই নিয়ে এসেছ কি?’ হলুদের বড় ভাই দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, ‘দুঃখিত, আপনাকে ঝামেলা করাতে হচ্ছে, আমার মা যা বলছেন তা রাগের কথা, আমার স্ত্রী কখনো গর্ভপাত করবে না।’ হলুদের মা চোখ বড় করে তাকালেন, ‘স্পষ্টই তো সে নিজেই বলেছে!’ ডাক্তার পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখে বললেন, ‘তোমরা প্রথমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নাও, সব কাগজপত্র নিয়ে এসো আমার কাছে।’ ডাক্তার চলে যেতেই হলুদের বাবা ছেলেকে বললেন, ‘আজ বিকেলে তুই বাড়ি ফিরে যা, কিছু কাজ মিটিয়ে নিতে হবে।’ তিনি হলুদের মাকে টেনে নিয়ে দ্রুত বাড়ির দিকে চলে গেলেন। হলুদের স্ত্রীলোক বলল, ‘তোমার বাবা কী বোঝাতে চাইছেন, তোমাকে বাড়ি যেতে বলেছেন, সত্যি সত্যিই সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান?’ হলুদের বড় ভাই মুখ ভারী করে মাথা নাড়লেন, ‘আমি জানি না...’ হলুদের স্ত্রীলোক চিন্তিত হয়ে উঠল, ‘যদি তোমার বাবা-মা সত্যি তোমাকে ছেড়ে দেন, তাহলে আমার ভাইয়ের বিয়ে কী হবে? আমার বাড়ির লোকজন অপেক্ষা করছে টাকার জন্য!’ হলুদের বড় ভাই অবাক হয়ে তাকালেন, মুখ খুললেন, ‘স্ত্রী, তোমার মনে কি শুধু তোমার নিজের পরিবারই গুরুত্বপূর্ণ? আমি তোমার জন্য আমার বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দিতে রাজি আছি, তুমি কেন আমাকে একটু খেয়াল করবে না?’ হলুদের স্ত্রীলোক চোখ বাঁকালেন, ‘তোমাকে কী দেখে আমার কী যে দেখা? তুমি একটা বড় ছেলে কেন এত ভীতু, সত্যি অকেজো!’ তিনি জানতেন স্ত্রীর মুখে কোনো ভালো কথা নেই, তবু এমন অপমান শুনে হলুদের বড় ভাইয়ের বুকটা ধক করে উঠছিল। এই মুহূর্তে তিনি অনুতাপ করছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর পেটের সন্তানের কথা মনে পড়তেই সবকিছু ক্ষমা করে দিলেন। হলুদের স্ত্রীলোক দেখে তিনি মাথা নিচু করে রেখেছেন, একটা হেঁচকা শব্দ করলেন, ‘আমি চিন্তা করব না, যদি তোমার পরিবার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারো, তাহলে সন্তান আমি কখনো নেব না।’ সন্তান আসলে তার নয়, হলুদ পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য না হলে তিনি এখনও গর্ভবতী হতেন না। হলুদের বড় ভাই কিছু বললেন না, থার্মোস নিয়ে গিয়ে গরম পানি এনেছিলেন। তারপর স্ত্রীর জন্য খাবার নিয়ে এসে বাড়ির দিকে যাত্রা করলেন। পথে তিনি সবসময় উদ্বিগ্ন ছিলেন। বাড়ির গেটে পৌঁছে দেখে গ্রামের লোকজন ভর্তি, বুকটা ধক্ করে উঠল। তিনি ভিড় ঠেলে ঢুকলেন, শুনলেন কেউ বাবাকে পরামর্শ দিচ্ছে, ‘দাদা, এই জিয়াংগুনের স্ত্রীলোক যে ভুল করেছে তার সাথে জিয়াংগুনের কোনো সম্পর্ক নেই, তাকে মনে রাগ করা যাবে না।’ ‘হ্যাঁ, তোমাদের হলুদ পরিবারে জিয়াংগুনই একমাত্র ছেলে, যদি পিতা-পুত্র সম্পর্ক ছিন্ন করো তাহলে পরিবার বংশধরা শেষ হয়ে যাবে?’ দাদা রাগে গরগর করছেন, ‘তোমরা আর উপদেশ দিও না, আজ তোমাদের ডাকা হয়েছে সাক্ষী হতে, বাকিটা না মাথায় রেখো!’ হলুদের বড় ভাই ঠিক মাঝখানে ঢুকতেই এই কথা শুনলেন। তৎক্ষণাৎ পা দুটো কাঁপতে লাগল, মাটিতে হাঁটু মুড়ে বসে পড়লেন, ‘বাবা...’ ‘ওহে জিয়াংগুন ফিরে এসেছে... দেখছি এই ছেলেটা ভয়ে কাঁপছে... এত দুঃখের!’ চারপাশের গ্রামবাসীরা গুঞ্জন করছেন, নিঃশ্বাস ফেলছেন। হলুদ্যান বাড়িতে ছিল না, গতকালই জেলা শহরের উচ্চ বিদ্যালয়ে ফিরে গিয়েছিল। হলুদের মা চোখ লালসা করে কেঁদে ফেলেছিলেন। লিন সিয়াওদু না থাকলে হয়তো তিনি অনেক আগেই পড়ে যেতেন। এত কষ্ট সত্ত্বেও হলুদের মা কিছু বলেননি বাবাকে। তিনি বাবাকে সমর্থন করছিলেন। কিন্তু ছেলে তো তার শরীর থেকে পড়ে আসা মাংস। যে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে, পরে ছেলের সাথে দেখা করা-মিটমিটি কমে যাবে, এটা মনে হতেই বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। ‘কোমর থেকে উঠে বসো।’ হলুদের বাবা পকেট থেকে দুটি সম্পর্ক ছিন্নের কাগজ বের করলেন, গম্ভীর গলায়, ‘তুমি ফিরে এসেছ, এই দুটো কাগজে সই করো আর আঙুলের ছাপ দাও। এখন থেকে আমাদের হলুদ পরিবারের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই, একদম ছেদ করা। তোমার সবকিছু এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে হবে, শাশুড়ির বাড়ি থাকবে নয়তো সেনাবাহিনীতে ফিরে যাবে, তোমার যা খুশি। তোমার স্ত্রী আমাদের হলুদ পরিবারকে সবকিছু খালি করে দিয়েছে, টাকা আর খাদ্য যা কিছু আমরা তোমাকে দেয়নি, এভাবেই।’ ‘বাবা! আপনি সত্যি আমাকে চান না?!’ হলুদের বড় ভাই চোখ লাল করে কথা বলছিলেন, গলা ভেঙে যাচ্ছিল। ‘তুমি যদি সত্যি আমাকে বাবা মনে করো, হলুদ পরিবারের জন্য ভালো চাও, তাহলে দেরি করো না, সই করে নাও!’ হলুদের বাবা মুখ ঘুরিয়ে রেখেছিলেন ছেলের চোখের জল দেখতে না। ছেলের প্রতি যতই হতাশ, তবু তিনি ব্যথিত। বাবা এত সিদ্ধান্তহীন দেখে হলুদের বড় ভাই কেঁপে কাঁপে সই করলেন আর আঙুলের ছাপ দিলেন। সবার সামনে হলুদের বাবা হলুদের বড় ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। সবাই নিঃশ্বাস ফেলছিলেন, কিন্তু আর উপদেশ দিতে পারছিলেন না। হলুদের বড় ভাই কিছু গুছাতে মন ছিল না, ঘুরে শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিরে গেলেন। শহরের পথে হলুদের বড় ভাই কাঁদতে কাঁদতে যাচ্ছিলেন। তিনি সবসময় ভাবতেন বাবা-মা তার সীমাহীন সহনশীলতা দেখাবেন। কিন্তু আজ তিনি বুঝতে পারলেন তিনি ভুল করেছিলেন। হলুদের বড় ভাই নিজের স্ত্রীর জন্য যে বারবার তাদের সাথে ঝগড়া করতেন, তাদের ভালোবাসা আর ধৈর্য একে একে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি কিছুই লক্ষ্য করছিলেন না, এমনকি তাদের কাছে আপস করতে চাইছিলেন। বাবা-মার হতাশার মুখটা মনে পড়তেই হলুদের বড় ভাইয়ের বুকটা ধারালো ছুরির মতো ব্যথা করছিল। তিনিই তাদের ভালোবাসার অভাবে তাদের হারিয়েছেন। এখন তার কাছে শুধু স্ত্রী আর সন্তান, এদেরও হারাতে পারবেন না। ক্লান্ত ভারী পা ফেলে ফেলে হলুদের বড় ভাই শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকলেন। ঠিক রোগীর ঘরের দরজায় পৌঁছে শুনলেন ভিতর থেকে শাশুড়ির গলা, ‘জিয়াংগুন যে অকেজো ছেলে, তার বাবা-মাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে? পরে ব্যাপারটা না নষ্ট করিস।’ ‘আমার মতে ঝুঁকিপূর্ণ, এই জামাইটা অত্যন্ত অকেজো, টাকা-পয়সা পেলেও পেল না।’ শালক গলায় অবজ্ঞা, ‘আপু, তুমি কেন এই অকেজো জামাইকে বেছে নিলে!’ হলুদের স্ত্রীলোক, ‘আরে, এটা আমার দোষ নয়। আগে তো গ্রামের ওয়াংকাই ভাইয়ের সাথে বিয়ে হবে বলে স্বপ্ন দেখতাম, বাবা-মা বললেন তোমার বাড়ির অবস্থা খুব খারাপ, কন্যাদান দিতে পারবে না, তাই বিয়ে হবে না। একটা রাগে নদীতে ঝাঁপ দিলাম, ঠিক তখনই এই অকেজো হলুদ জিয়াংগুন এসে বাঁচাল, তার বাড়িতে অবস্থা ভালো, তাই বিয়ে করে ফেললাম।’ শাশুড়ি, ‘যদি ওয়াংকাই সেই ছেলেটার সাথে বিয়ে করতে তাহলে ভালো হতো। দেখো এখন কেমন ভালো করে উঠেছে, শহরের সাপ্লাই কো-অপারেটিভের পরিচালক, রাষ্ট্রের খাদ্য খায়!’ শালক ঠোঁট কুঁচকে, ‘মা, এটা ভাবতে পারবে না। ওয়াংকাই ভাই তো বাড়িতে এসে জামাই, সে যদি সাপ্লাই কো-অপারেটিভের পরিচালকের মেয়ের সাথে সম্পর্ক না করত, তাহলে এত ভালো করে উঠত?’ শাশুড়ি, ‘ওয়াংকাই কীভাবে হয়েছে তা জানি না, কিন্তু এখন টাকাটা আছে তা সত্যি। যদি সে টাকা হাতে পায়, তাহলে তুমি বাড়িতে নিয়ে এসে স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারতে, এখানে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।’ শালক কিছু বলল না, মুখটা লম্বা হয়ে গেল। দরজার কাছে হলুদ জিয়াংগুন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। দরজা ঠেলতে যাচ্ছিলেন, শুনলেন নিজের স্ত্রী বলছে, ‘মা, যদি হলুদ জিয়াংগুনের বাড়ি সত্যি সত্যিই সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে আমি ডিভোর্স করব, তাও না আমি তার সাথে ভালোবাসি না।’ হলুদ জিয়াংগুনের বুকটা ধক্ করে উঠল, দরজা ঠেলার হাত থমকে গেল...